Japan Work Permit Form Maldives for Bangladeshi 2025: আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য
Japan Work Permit Form Maldives for Bangladeshi 2025: একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা
জাপান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শ্রমবাজার, যেখানে দক্ষ কর্মীদের জন্য রয়েছে অবারিত সুযোগ। মালদ্বীপে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশীই চাচ্ছেন সরাসরি মালদ্বীপ থেকে জাপানের কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে। ২০২৫ সালে জাপান তাদের ভিসা প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু আধুনিকায়ন এনেছে, যা আপনার জানা জরুরি।
১. মালদ্বীপ থেকে আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility Criteria)
মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আপনাকে জাপানের কাজের ভিসার জন্য মূলত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
বৈধ রেসিডেন্স পারমিট: আপনার মালদ্বীপের ওয়ার্ক পারমিট বা রেসিডেন্স কার্ডের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
Certificate of Eligibility (COE): এটি জাপানের কাজের ভিসার মূল চাবিকাঠি। আপনার জাপানি নিয়োগকর্তা (Employer) জাপানের ইমিগ্রেশন থেকে এই COE সংগ্রহ করে আপনাকে পাঠাবেন।
ভাষা দক্ষতা: SSW (Specified Skilled Worker) ভিসার জন্য জাপানি ভাষার দক্ষতা (JLPT N4/N5 বা JFT-Basic) এবং সংশ্লিষ্ট কাজের স্কিল টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।
২. প্রয়োজনীয় ফরম সংগ্রহ (Japan Work Permit Form)
২০২৫ সালে জাপানের ভিসা ফরমটি আপনি অনলাইনেই ডাউনলোড করতে পারবেন।
ফরমের ধরন: জাপানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে "Visa Application Form to Enter Japan" ডাউনলোড করতে হবে।
পূরণ করার নিয়ম: ফরমটি ইংরেজিতে ব্লক লেটারে (বড় হাতের অক্ষরে) পূরণ করতে হয়। মালদ্বীপ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে আপনাকে "Maldives" কে আপনার বর্তমান আবাসস্থল হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
৩. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (Required Documents)
মালদ্বীপের জাপানি দূতাবাসে জমা দেওয়ার জন্য আপনার যে সকল কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন:
Original Passport: পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে।
COE (Certificate of Eligibility): মূল কপি এবং একটি ফটোকপি।
Photos: ২ ইঞ্চি x ২ ইঞ্চি সাইজের সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সদ্য তোলা ছবি (২ কপি)।
Work Permit Copy: মালদ্বীপের বর্তমান কাজের ওয়ার্ক পারমিট কার্ডের কপি।
Employment Certificate: মালদ্বীপের বর্তমান কোম্পানি থেকে এনওসি (NOC) বা কাজের সনদ।
Educational Certificates: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (প্রয়োজন সাপেক্ষে)।
৪. আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপ অনুযায়ী গাইডলাইন
ধাপ ১: নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা
প্রথমেই আপনাকে জাপানে এমন একজন স্পন্সর বা নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে হবে যিনি আপনাকে নিয়োগ দিতে আগ্রহী। তিনি আপনার হয়ে জাপানের ইমিগ্রেশন ব্যুরোতে COE-এর জন্য আবেদন করবেন।
ধাপ ২: COE সংগ্রহ
নিয়োগকর্তা যখন COE অনুমোদন করিয়ে আপনাকে পাঠাবেন, তখনই আপনি মালদ্বীপে অবস্থিত জাপানি দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ধাপ ৩: ফরম পূরণ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট
জাপানি দূতাবাসের ওয়েবসাইট থেকে ফরম ডাউনলোড করে নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। এরপর মালদ্বীপের মালের (Male') সিটিস্থ জাপানি দূতাবাসে যোগাযোগের মাধ্যমে সাবমিশনের জন্য সময় নির্ধারণ করুন।
ধাপ ৪: ইন্টারভিউ ও ভিসা স্ট্যাম্পিং
আপনার সমস্ত ডকুমেন্টস এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আপনার একটি সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ নিতে পারে। সব ঠিক থাকলে সাধারণত ৫-১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হয়।
৫. জাপানের কাজের ভিসার ধরণ (Types of Work Visas)
২০২৫ সালে বাংলাদেশীদের জন্য মূলত তিন ধরণের ভিসা জনপ্রিয়:
SSW (Specified Skilled Worker): যারা টেকনিক্যাল কাজে দক্ষ (যেমন: কনস্ট্রাকশন, কেয়ারগিভার, কৃষি)।
TITP (Technical Intern Training Program): ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে কাজ শেখা ও আয় করা।
Engineer/Specialist in Humanities: উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের জন্য (যেমন: আইটি ইঞ্জিনিয়ার, একাউন্ট্যান্ট)।
৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. মালদ্বীপ থেকে জাপানের ভিসার আবেদন করতে কত টাকা লাগে?
উত্তর: সাধারণত বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য জাপানের ভিসা ফি নেই (বিনামূল্যে)। তবে সার্ভিস চার্জ বা ইনস্যুরেন্স বাবদ সামান্য খরচ হতে পারে। মনে রাখবেন, কোনো দালালকে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. মালদ্বীপে বসেই কি আমি জাপানি ভাষা শিখতে পারি?
উত্তর: হ্যাঁ, অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আপনি JLPT N5 বা N4 লেভেলের প্রস্তুতি নিতে পারেন। এটি আপনার SSW ভিসার আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক।
৩. COE পেতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: আবেদনের ধরণ ভেদে COE পেতে ১ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। এটি সম্পূর্ণ জাপানের ইমিগ্রেশন বিভাগের উপর নির্ভর করে।
৪. মালদ্বীপের ওয়ার্ক পারমিট কার্ড কি জমা দিতে হয়?
উত্তর: অরিজিনাল কার্ড জমা দিতে হয় না, তবে আবেদনের সময় কার্ডের উভয় পাশের পরিষ্কার ফটোকপি জমা দিতে হবে এবং অরিজিনাল কার্ডটি সাথে রাখতে হবে দেখানোর জন্য।
৫. আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকলে কি আবেদন করা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, SSW বা TITP ভিসার জন্য উচ্চশিক্ষার চেয়ে কাজের দক্ষতা (Skill) এবং জাপানি ভাষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপসংহার (Conclusion)
মালদ্বীপ থেকে জাপানের স্বপ্ন পূরণে ২০২৫ সাল হতে পারে আপনার জন্য সেরা সুযোগ। সঠিক নিয়মে ফরম পূরণ এবং বৈধভাবে COE সংগ্রহ করতে পারলে খুব সহজেই আপনি মালদ্বীপ থেকে জাপানে পাড়ি জমাতে পারেন। মনে রাখবেন, সবসময় দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসরণ করবেন।
